যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বিপজ্জনক, কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না

John Smith | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ দুপুর

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অন্যায়, অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে ১০০–তে ১০০ নম্বর পেতে হবে। রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ বিপজ্জনক বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে দলটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাইফুল হক।

ক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, সংসদে এক প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের যে তিনটি ট্রফি রয়েছে, বিএনপি সরকারকে অবশ্যই তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

এই চুক্তি কোনোভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয় বলে সভায় মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বৈষম্য আরও বাড়বে। কারণ, এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এটা কোনোভাবেই মুক্তবাণিজ্যের চুক্তি নয়। এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। যেটা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না।

চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এই অন্যায় অসম চুক্তি করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত বিশেষ স্বার্থে অধীনতামূলক এই চুক্তি করা হয়েছে। এটি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

বাণিজ্যচুক্তির হোতাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। বাণিজ্যচুক্তির নামে বাস্তবে আমেরিকার সঙ্গে তাদের স্বার্থে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। মালয়েশিয়া এ ধরনের চুক্তি বাতিল করতে পারলে আমরা পারব না কেন?’

সভায় ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.