ঘন ঘন লোডশেডিং: ফ্রিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন যেভাবে

John Smith | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ১২:২৯ দুপুর

লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি থেকে ফ্রিজ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার | ছবি: ফ্রিপিক

তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় খাবার টাটকা রাখতে ফ্রিজের বিকল্প নেই; কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ–বিভ্রাট আপনার শখের ফ্রিজটির আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করলে ফ্রিজের কমপ্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা থেকে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই ফ্রিজকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন
ভোল্টেজ বেশি ওঠানামা করলে অনেক সময় রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলোতে ‘বিল্ট-ইন স্ট্যাবিলাইজার’ থাকে; তবে বাংলাদেশের ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশনের যে মাত্রা, তাতে একটি মানসম্মত এক্সটার্নাল ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এটি উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজ থেকে ফ্রিজের মাদারবোর্ড ও কমপ্রেসরকে রক্ষা করে।

শর্ট সাইক্লিং রোধে ‘থ্রি মিনিটস রুল’
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি আবার চলে আসে, তবে দ্রুত ফ্রিজ চালু করা বিপজ্জনক। একে ‘শর্ট সাইক্লিং’ বলে। লোডশেডিং হলে প্লাগ খুলে রাখুন এবং বিদ্যুৎ আসার পর ‘থ্রি মিনিটস রুল’ ফলো করুন। অর্থাৎ অন্তত তিন থেকে পাঁচ মিনিট পর বিদ্যুৎ–সংযোগ দিন। এতে কমপ্রেসরের ভেতরের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ার সময় পায়।

ফ্রিজ পূর্ণ রাখুন, তবে ঠাসাঠাসি নয়
ফ্রিজের ভেতর যত বেশি ঠান্ডা জিনিস থাকবে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজ তত বেশিক্ষণ শীতল থাকবে। খালি ফ্রিজ দ্রুত গরম হয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন বাতাস চলাচলের পথ অবরুদ্ধ না হয়। যদি ফ্রিজ খালি থাকে, তবে কয়েকটি পানির বোতল ভরে রেখে দিতে পারেন, যা ‘থার্মাল মাস’ হিসেবে কাজ করবে।

আইপিএস কি সমাধান?
ফ্রিজের জন্য সাধারণ আইপিএস ব্যবহার না করাই ভালো। যদি আইপিএস ব্যবহার করতেই হয়, তবে সেটি অবশ্যই ‘পিওর সাইন ওয়েভ’ এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে। সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো ফ্রিজের জন্য ডেডিকেটেড সোলার হাইব্রিড ইনভার্টার।

থার্মোস্ট্যাট সেটিংসে পরিবর্তন
অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ধাপ কমিয়ে রাখুন। এতে বিদ্যুৎ চলে গেলেও ভেতরের খাবার দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ থাকবে এবং কমপ্রেসরকে বারবার সর্বোচ্চ শক্তিতে কাজ করতে হবে না।

রাবার সিল বা গ্যাসকেট পরীক্ষা
ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার যদি ঢিলা থাকে, তবে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজ দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং কমপ্রেসরকে দ্বিগুণ খাটতে হয়। একটি কাগজ দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে দেখুন, যদি কাগজটি সহজে টেনে বের করা যায়, তবে বুঝবেন, সিলটি পরিবর্তন করার সময় হয়েছে।

কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার রাখা
ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কনডেনসার কয়েলে ধুলো জমলে তাপ ঠিকমতো বের হতে পারে না। ফলে অল্প বিদ্যুতেই যন্ত্রটি বেশি গরম হয়ে যায়। বছরে অন্তত দুই বার ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম দিয়ে এই কয়েল পরিষ্কার করুন। এতে লোডশেডিংয়ের সময়ও ফ্রিজের কার্যক্রম সচল ও স্বাভাবিক থাকে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.