টেস্ট জিতেও নাজমুল কেন এত শান্ত

John Smith | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। গতকাল জয়ের পর | শামসুল হক

শান মাসুদের সংবাদ সম্মেলন চলছিল, মনোযোগটা তবু সেদিকে ধরে রাখা গেল না। সিরিজ কাভার করতে আসা একমাত্র পাকিস্তানি সাংবাদিকের সঙ্গে পাকিস্তান অধিনায়কের দীর্ঘ হতে থাকা মাতৃভাষার কথোপকথন এমনিতেই স্থানীয় সাংবাদিকদের মনোযোগ বিচ্যুতির কারণ হয়ে উঠছিল। তার ওপর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এসে তখনই দর্শকের আসন নিলেন নাজমুল হোসেন।

জয়ী দলের অধিনায়ক, সঙ্গে ম্যাচসেরাও। তখনো খেলার সফেদ পোশাক না ছাড়া নাজমুল তবু শান্ত, ধীরস্থির। শান মাসুদের প্রশ্নকর্তার সারিতে থাকা অনেকেরই মনোযোগ ঘুরে গেছে এদিকে, অনেকে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ অধিনায়কের অটোগ্রাফ নিতে। নাজমুল গম্ভীর মুখে অটোগ্রাফ দিতে থাকলেন।

গম্ভীরতা এমন দিনের অলংকার নয়, আবার অলংকারও। বিজয় উৎসব মানে হাসি–আনন্দ–উল্লাস, কিন্তু জয়ের মধ্যে অতৃপ্তির কাঁটা থেকে গেলে সেই হাসি–আনন্দ–উল্লাস কখনো কখনো দমে যায়। এমন বর্ণালি সন্ধ্যায় নাজমুল শান্ত থাকলেন হয়তো সে কারণেই।

নাজমুলের ম্যাচসেরার পুরস্কার তিনটি অর্জনের যোগফল। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরি, দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ৮৭ রান এবং অবশ্যই দূরদর্শী অধিনায়কত্ব। আবার নাজমুলের অতৃপ্তিও খুঁজে পাবেন এখানেই। সেঞ্চুরিটা তো ডাবল হলো না, ৮৭টা তো সেঞ্চুরি হলো না!

শান মাসুদ চলে যাওয়ার পর উত্তরদাতার আসনে বসেও তাই কথায় উচ্ছ্বাস নেই। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক—সবাইকে প্রশংসায় ভাসালেও বুকের মধ্যে যেন অভিমানী বাষ্প! নিজের আয়নায় নিজেকে নিজের মতো করে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা।

prothomalo-bangla%2F2026-05-13%2F3k1oyaup%2FWhatsApp-Image-2026-05-12-at-6.43.00-PM.jpeg?w=1536&auto=format%2Ccompress&fmt=webp

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন | শামসুল হক

তাঁর ব্যাটিং নিয়ে হওয়া একাধিক উদ্দীপনামূলক প্রশ্নেও উদ্দীপ্ত না হয়ে অভিনন্দনগুলোকে মৃদু প্রত্যাখ্যানই করলেন নাজমুল। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসে ইনিংসটা বড় হতে পারত। উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা। তারপরও আমার মনে হয় ইনিংসটা আরেকটু বড় হতে পারত।’

দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ তাঁর কথায় সরাসরি আসেনি। পঞ্চম দিনের উইকেটে ব্যাটিং করেছেন বলেই হয়তো সে জায়গায় নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার সুযোগ পেলেন। কিন্তু শেষে আবারও বলেছেন, ‘আমি বলব যে প্রথম ইনিংসটা আরেকটু বড় হতে পারত।’

একটু পর আবারও পিঠ চাপড়ানো প্রশ্ন—‘আপনি তো দারুণ ফর্মে আছেন, খেলাটা কেমন উপভোগ করছেন?’ নাজমুল তবু গললেন না। সবার সঙ্গে ব্যাটিং উপভোগ করার কথাটাই শুধু জানালেন। আসলে নিজেকে নিয়ে তাঁর কোনো কিছুতেই যেন বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। এমনকি তা নেই স্যার ডন ব্রাডম্যান, জর্জ হেডলির সঙ্গে তুলনাতেও।

ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে অনুদিত করার সামর্থ্যে সম্প্রতি তুলনাটা এসেছে। প্রসঙ্গটা উঠতেই বিনয়ের হাসি হেসে নাজমুলের আত্মসমর্পণ, ‘আপনি যে দুইটা নামের কথা বলেছেন, তা আমার সঙ্গে যায় না একদম। মানে মাফ করে দেন আমাকে।’

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.