ভোটে এগিয়ে বিজয়, মন্দিরে তৃষার উপস্থিতি কি কাকতালীয়

John Smith | আপডেট: ৪ মে ২০২৬, ৫:২০ বিকাল

থালাপতি বিজয়ফাইল | ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজয়ের দল। প্রথমবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েই এমন পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করেছে।

দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করার পর থেকেই বিশাল জনপ্রিয়তা পাচ্ছিলেন বিজয়। তাঁর সভায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই জনসমর্থনই ভোটে পরিণত হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় টিভিকে শতাধিক আসনে এগিয়ে, যা প্রথমবারের নির্বাচনের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব।
এই নির্বাচনে বিজয় নিজেই লড়েছেন দুটি কেন্দ্র থেকে—তিরুচিরাপল্লি ইস্ট ও চেন্নাইয়ের উত্তরের পেরাম্বুর। দলের ভেতর থেকেই তাঁকে পেরাম্বুর থেকে লড়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সিনেমা থেকে রাজনীতিতে
১৯৭৪ সালে চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া বিজয়ের পুরো নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ও মা শোভা চন্দ্রশেখর দুজনেই চলচ্চিত্রজগতের মানুষ।
শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করলেও এরপর ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থিরপু’ দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে আসল সাফল্য আসে ‘পুভে উনক্কাগা’ ছবির মাধ্যমে।
এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ছবি ‘লাভ টুডে’, ‘কাধালুক্কু মারিয়াধাই’, ‘কুশি’, ‘ফ্রেন্ডস’ তাঁকে বানিয়েছে তামিল সিনেমার অন্যতম বড় তারকা।

অভিনয়ের পাশাপাশি গায়ক হিসেবেও সফল বিজয় কাজ করেছেন ইয়াইয়ারাজ ও এ আর রাহমানের মতো সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে।
রাজনীতিতে আসার পর তিনি ঘোষণা করেন ‘জন নায়গণ’ হবে তাঁর শেষ সিনেমা।

রাজনীতির পথে যাত্রা
২০০৯ সাল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন বিজয়। তাঁর ফ্যান ক্লাব ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম’ সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়।
২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে গঠন করেন বিজয় এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন।

আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান
বিজয়ের ভাষায়, তাঁর দল ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে কাজ করবে। তিনি কেন্দ্রীয় শাসক ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) আদর্শগত প্রতিপক্ষ এবং রাজ্যের শাসক ড্রাভিদা মুন্নেত্রা কাজগমকে (ডিএমকে) রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ডিএমকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বংশানুক্রমিক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকি শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে কাচাতিভু দ্বীপ ফেরত আনার দাবিও তুলে ধরেছেন।

বিতর্ক ও ধাক্কা
তবে বিজয়ের পথটা একেবারে মসৃণ ছিল না। করুরে একটি টিভিকে সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় বড় ধাক্কা দেয়।
ঘটনার পর তাঁর আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয়, বিশেষ করে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করায়। যদিও দল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ২০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়, এমনকি সিবিআই তদন্তের মুখোমুখিও হতে হয় বিজয়কে।

prothomalo-bangla%2F2025-05-22%2F87jcf96e%2F45876666712111382301011009090911914188952969n.jpg?w=1536&auto=format%2Ccompress&fmt=webp

তৃষা কৃষ্ণান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কথিত প্রেমিকাকে নিয়ে জল্পনা
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিজয়ের কথিত প্রেমিকা অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের তিরুপতি মন্দিরে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে করা এই সফরের দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সময়ের কাকতালীয় মিল, ঠিক ভোট গণনার দিনেই এই প্রার্থনা, অনেকের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (টুইটার) অনেক ব্যবহারকারী তৃষার এই মন্দিরযাত্রাকে বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেন।
কেউ কেউ প্রার্থনার মধ্যে প্রতীকী অর্থ খুঁজছেন, আবার অনেকে এটিকে নিছকই কাকতাল বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই জল্পনার পেছনে বড় কারণ, তৃষা ও বিজয়ের দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক এবং একাধিকবার একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা যাওয়া।

চলতি বছরের শুরুতে চেন্নাইয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয় ও তৃষাকে একসঙ্গে দেখা যায়, যা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। এরই মধ্যে বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের খবর তৃষার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনের পালে হাওয়া দেয়। যদিও দুই তারকার কেউই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.