শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে শর্ত
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএনপি সরকার জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে, তবে যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে না।
দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও সংবিধান সংস্কার
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন ও বিয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সংবিধান সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্ব
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দলের নেতারা বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
বৈঠকে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
- ফ্যামিলি কার্ড
- কৃষক কার্ড
- খাল খনন কর্মসূচি
এসব উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দল পুনর্গঠন ও জাতীয় কাউন্সিল
দীর্ঘ এক দশক পর বিএনপি তাদের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
- অক্টোবর বা নভেম্বরে কাউন্সিল হতে পারে
- নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে
- সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
সংরক্ষিত নারী আসন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানা গেছে।
নেতাদের মন্তব্য
বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের প্রথম দিকের কার্যক্রম ইতিবাচক হলেও সামনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।