বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার বাড়ছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে, নারীদের উপস্থিতি বেশি

John Smith | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ দুপুর

ভোটদানের পর অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর এক স্বজন। আজ সকালে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া গ্রামে

চৈত্রের সকালে রোদ ছড়াতে শুরু করেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ভোটার সুজাদা বেগম (৩৫)। তাঁর কোলে এক মাস বয়সী মেয়ে। ঘড়িতে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে থাকলেও তিনি ভোট দিতে পারেননি।

সুজাদা বেগমের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম তাঁতিহাটি গ্রামে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলছিলেন, ‘বাড়িতে কারও কাছে সন্তান রেখে আসার মতো অবস্থা নাই। তাড়াতাড়ি বাড়ির কাম শেষ কইরা ছোট সন্তানরে লইয়া ভোট দিতে আইছি। কিন্তু ভোট চলতাছে আস্তে আস্তে।’

সকাল সাড়ে সাতটায় শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। দিনের শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।

শ্রীবরদী উপজেলার তাঁতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে নারী ভোটারদের জটলা দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে বাড়ছে অস্বস্তি। এ অবস্থায় ভোট গ্রহণে গতি আনার দাবি করেছেন ভোটাররা।

prothomalo-bangla%2F2026-04-09%2Fhgjgw5mf%2FSherpur_DH0561_20260409_Sherpur_pic_05_09_04_2026.jpg?w=1536&auto=format%2Ccompress&fmt=webp

সকালে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে জানিয়ে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাস বলেন, এ কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৭৮১ ভোটার আছেন এবং মোট ৯টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। সময় বাড়ার সঙ্গে ভোটের গতি বাড়ছে।

সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে রুপারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও নারী ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আতাউল্লাহ জানান, এখানে মোট ভোটার ৪ হাজার ৬৭৬ জন। তাঁর দাবি, ভোটার বাড়ছে, তবে ভোট প্রদানে কোনো বিলম্ব হচ্ছে না।

কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে আসেন হালচাটি গ্রামের ভোটার রমিছা বেগম (৬৫)। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে আগে এলেও এখনো ভোট দিতে পারিনি।’

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে শ্রীবরদী শহরের অদূরে মাদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যায়। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহ জামাল জানান, এ কেন্দ্রে ২ হাজার ৬৯১ ভোটার আছেন। পাঁচটি বুথে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৫৯টি।

উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষ বেশি। বাড়ির কাজ শেষ কইরা আস্তে আস্তে মানুষ ভোট দিতে আইব।’

কুড়িকাহনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখানে ৪ হাজার ৯২৮ ভোটার আছেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ১৮৫ ভোট পড়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।

শেরপুর জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচনের প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। এ ছাড়া নির্বাচনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.