অনলাইনে পণ্যের ফরমাশ, পার্সেল খুলে পেলেন গোবর

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫২ দুপুর

অনলাইন কেনাকাটা এখন আধুনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময় বাঁচাতে ও নানা ছাড়ের কারণে অনেকেই আর দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে চান না। হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার থেকে ফরমাশ দিলেই কাঙ্ক্ষিত পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে দোরগোড়ায়।

তবে অনলাইন কেনাকাটায় রয়েছে প্রতারণার ফাঁদও। ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডার এক বাসিন্দা সেই ফাঁদে পড়েছেন।। তাঁর শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, হয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। তাঁর একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের প্রয়োজন ছিল। অনলাইনে ফরমাশ দিয়ে সময়মতো পার্সেলও হাতে পান তিনি। কিন্তু পার্সেল খুলে হতবাক হয়ে যান। কাঙ্ক্ষিত পণ্য নয়, তাঁকে পাঠানো হয়েছে শুকনো গোবর!

ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম আকাশ নাগর। তিনি গ্রেটার নয়ডার দানকৌর থানা এলাকার বাসিন্দা। কয়েক দিন আগে নিজের কাজের সুবিধার জন্য অনলাইনে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ফরমাশ দেন। কেনাকাটার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁকে পণ্যের পুরো দাম আগেই পরিশোধ করতে হয়।

গত সোমবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ কুরিয়ার মারফত তাঁর বাড়িতে পার্সেল পৌঁছায়। ডিভাইসটি হাতে পাওয়ার আনন্দে দ্রুত প্যাকেটটি খোলেন আকাশ। কিন্তু প্যাকেট খুলে তিনি যা দেখতে পান, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। প্যাকেটের ভেতর ডিভাইস নয়, রয়েছে শুকনো গোবর।

হতভম্ব দশা কাটতেই আকাশ বুঝতে পারেন, অনলাইন শপিংয়ের চকচকে বিজ্ঞাপনের আড়ালে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দেরি না করে স্থানীয় সাইবার ক্রাইম থানা ও দানকৌর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।

আকাশ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ১ হাজার ৯৯৯ রুপি দিয়ে একটি ডিভাইস অর্ডার করেছিলাম, কিন্তু তার বদলে পেয়েছি এক প্যাকেট গোবর সার।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স ওয়েবসাইটটির বৈধতা, মূল্য পরিশোধের ডিজিটাল ট্রানজেকশন আইডি এবং যে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানো হয়েছিল, তাদের নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করা হচ্ছে।

পুলিশ বলেছে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.