মিরপুরে তিন ভাইয়ের বাহিনী, দখলে রাখেন তিন এলাকা

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ দুপুর

আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর প্রায় ২৮ কাঠা জমি রয়েছে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানার আওতাধীন বাইগারটেক এলাকায়। জমিটির চারদিকে সীমানাপ্রাচীর তুলে ভেতরে পাঁচটি টিনের ছাউনির ঘর করেছিলেন তিনি। সেগুলো ভাড়া দিতেন।

মোহাম্মদ আলী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসী বুলডোজার দিয়ে তাঁর জমির সীমানাপ্রাচীর ও ঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। জমিটি দখল করে নিয়েছে তারা। এখন আর তিনি সেখানে যেতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আমার জমির দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা। মামুন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সে জমি দখল করে নিয়েছে। মামুনের ভাই মশিউর রহমান আমাকে ফোন করে জমিতে যেতে নিষেধ করেছেন।’

মোহাম্মদ আলী যে ‘মামুন বাহিনী’র কথা বলেছেন, সেটি মিরপুরের একটি অপরাধী দলের নাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাহিনীটির নামে মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, কেব্‌ল টেলিভিশন (ডিশ) ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বস্তির ঘর থেকে ভাড়া আদায়সহ নানা অপরাধের অভিযোগ আসছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বিদেশে থাকা চারজন ‘সন্ত্রাসী’ মিলে মিরপুরে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ বা চারটি বাহিনী পরিচালনা করে। চার বাহিনীর একটি ‘মামুন বাহিনী’। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন। ভাষানটেক থানা বিএনপির ১ নম্বর আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার ইব্রাহিম’, পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদত হোসেন এবং মোক্তার নামের আরেক ‘সন্ত্রাসী’ আলাদাভাবে অন্য তিনটি অপরাধী দল নিয়ন্ত্রণ করেন।

পুলিশ ও মিরপুর এলাকার বিএনপির ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইব্রাহিম ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১৩, মিরপুর ১৪, ভাষানটেক ও কালশী এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। শাহাদত ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১, মিরপুর-২ ও মিরপুর-৬ নম্বর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। মোক্তার ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বরের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।

পুলিশ সূত্র বলছে, সবচেয়ে বড় বাহিনীটির নিয়ন্ত্রক মফিজুর রহমান মামুন। তিনি থাকেন মালয়েশিয়া। সেখানে অবস্থান করে নিজের অপরাধী দল দিয়ে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকার চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।

হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি বিদেশে থাকলেও তাঁর আপন দুই ভাই দেশে বসে বাহিনী পরিচালনা করেন। বড় ভাইয়ের নাম মো. জামিল রহমান। ছোট ভাই মশিউর রহমান। বাহিনীতে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন রুবেল, মো. রফিকুল, আলমগীর, মোতালেব, রাজন, সামি, ভাগনে মামুন, সোহেল, কায়েস, সেলিম, প্রকাশ, সুজন, হাবিব, সাগর, রোকন, শামিম, জনি প্রমুখের নাম। জনি ও রোকন মিরপুরের যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত মার্চে রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের একটি তালিকা তৈরি করে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছিল। ওই তালিকায় মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় ৭২ চাঁদাবাজের নাম রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ২৫ জন। এর মধ্যে রয়েছে মামুন ও তাঁর দুই ভাইয়ের নাম।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামুন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ২০০১ সালে কিছুদিন কারাভোগের পর ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান মামুন। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হন তিনি এবং ১০ বছর সাজা ভোগ করেন। কারাভোগ শেষে ভারতে বসেই মিরপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বাংলাদেশে আসার পরপরই মামুন গ্রেপ্তার হন (২০২১)। তখন পুলিশ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছিল, মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ২টি সাজা পরোয়ানার তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে পুলিশ সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারের পর জামিন পেয়ে মামুন পালিয়ে যান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর প্রভাব বেড়েছে।

পুলিশের তালিকা থেকে মামুনের একটি বিদেশি মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়। তাতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে মামুনের ভাই মশিউর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে অনেক পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। কোনো পক্ষ বৈধ নথিপত্র নিয়ে এলে তাঁরা সহায়তা করেন। চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জমি দখল করে দেওয়া কোনো সাধারণ নাগরিকের কাজ নয়। এটা আদালত ও পুলিশের বিষয়।

যত অপরাধে নাম
মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা হাউজিং ও বাউনিয়া এলাকায় জমি কেনাবেচা বেশি হয় এবং সেখানে আবাসন ব্যবসার প্রসার ঘটছে। এই এলাকায় ছোট-বড় শতাধিক আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রথম আলো খোঁজ নিয়ে অন্তত সাতটি জমি দখলের ঘটনার সঙ্গে মামুন বাহিনীর নাম পেয়েছে। যেমন সাগুফতা হাউজিং এলাকায় ছয় বছর আগে পাঁচ কাঠা জমি কিনে টিনের ছাউনির ঘর করেছিল ১৮টি পরিবার। কয়েকটি পরিবার সেই ঘরে বসবাস করত। পরিবারগুলোর অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে গত ২৯ জুলাই রাতে তাদের ঘর এক্সক্যাভেটর বা খননযন্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় মামুন বাহিনীর সদস্যরা।

১৮টি পরিবারের জমির পাশে ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে মো. ইউনুস মিয়া নামের এক ব্যক্তির। তিনি বলেন, তাঁর জমিও দখল করেছে মামুন বাহিনী। মোট ১০ কাঠা জমি দখল করে তারা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে।

মিরপুর এলাকায় ছোট-বড় ২৩০টির মতো পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক পোশাক কারখানা রয়েছে মামুন বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানা থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলে মামুন বাহিনী। কারখানাগুলোর ঝুট ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে তারা।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি একটি পোশাক কারখানার জুট বিক্রি করতেন। সেই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মামুন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা প্রায়ই কারখানাটি সামনে ককটেল ফোটাত। পরে তিনি সেখান থেকে সরে আসেন।

চাঁদার টাকা না পেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে গুলি করে মামুন বাহিনীর সদস্যরা। যেমন গত বছরের জুলাই মাসে পল্লবীতে ‘পাঁচ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে’ এ কে বিল্ডার্সের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ওই সময় চারটি গুলি করে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এ কে বিল্ডার্সের কাছে ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করা ব্যক্তি জামিল, যিনি মামুনের ভাই।

এ কে বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান মো. কাইউম আলী খান। হামলার পর তাঁর ছেলে আমিনুল এহসান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, চাঁদা না দেওয়ায় দুই দফায় তাঁদের প্রতিষ্ঠানে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় তারা গুলিবর্ষণও করে। গুলিতে একজন আহত হন।

যুবদল নেতা খুনেও মামুন বাহিনীর নাম
মিরপুরে দোকানে ঢুকে গত ১৭ নভেম্বর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ হত্যা মামলায় শুটার হিসেবে যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা মামুন বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার গত ৪ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, মামুনের ছোট ভাই মশিউর শুটার ভাড়া করে তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন। চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন আসামিরা তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

কিবরিয়া হত্যা মামলাটি এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। মামলাটির তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার গত ৪ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, মামুনের ছোট ভাই মশিউর শুটার ভাড়া করে তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন। চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন আসামিরা তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

সক্রিয় একাধিক ‘কিশোর গ্যাং’

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, মামুন বাহিনী ছাড়াও পল্লবী এলাকায় কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’ সক্রিয়। সবচেয়ে বড় কিশোর গ্যাংয়ের নাম ‘ভইরা দে গ্রুপ’। এই গ্রুপের নেতা মো. আশিক। সম্প্রতি চাঁদাবাজি নিয়ে আশিকের সঙ্গে মামুনের ছোট ভাই মশিউরের দ্বন্দ্ব হয়। এই দুজনের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পল্লবী থানা-পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে ‘বাহুবলী গ্রুপ’। বাহুবলী গ্রুপের অস্ত্রসহ মহড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।

অপরাধ দমনে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক
ডিএমপির মিরপুর বিভাগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত জুলাই পর্যন্ত খুন হয়েছেন ৮৯ জন। এ সময়ে এই এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ২২৪টি, চুরির ঘটনায় ৫৩০টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১২৮টি এবং ডাকাতির ঘটনায় ৮টি মামলা হয়েছে। অবশ্য সব অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না।

পুলিশের তালিকায় মিরপুর একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গণি ৩০ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, মিরপুর অঞ্চলের অপরাধ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতই এসব অপরাধীকে দমন করা হবে। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা সন্ত্রাসীরা অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণে বাহিনী গড়েছে। তারা বিদেশে বসে দেশে থাকা তাদের অনুসারীদের দিয়ে এসব অপরাধ করাচ্ছে। এদের কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বিদেশে থাকা এসব অপরাধীকে ধরতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হবে।

পল্লবী থানা-পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে ‘বাহুবলী গ্রুপ’। বাহুবলী গ্রুপের অস্ত্রসহ মহড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।
‘রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে’
মিরপুর সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম এসেছে। অন্যদিকে অপরাধী দল পরিচালনাকারীদের বিএনপিতে পদ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে নানা অপরাধ করেন। কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক মনে করেন, অপরাধ দমনে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করা জরুরি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে যে টাকা উপার্জন করে, সেটার ভাগ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা পান। টাকার ভাগ পেয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এটা বন্ধ করতে হবে। নইলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.