ইরানের নৌ–বিমান বাহিনী শেষ, হামলার সক্ষমতা কমছে: জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্প

John Smith | আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩২ সকাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফল উৎক্ষেপনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসী উল্লেখ করে তাঁদের প্রশংসা করেন। এরপরে তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, আজ ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের বেশির ভাগ নেতারা মারা গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।

ট্রাম্প এরপরে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছে। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।

ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেঁতে রাখা বোমার হোতা’ বলে উল্লেখ করেন। সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতে আলোচনা অন্যরকম হতো বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তবে তবুও আমার জিততাম, বড় জয় পেতাম।’

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ইরান যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেটি ব্যাখ্যা করতেই তিনি এই ভাষণ দিচ্ছেন বলে জানান।

গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তালিকা দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ‘ঠগ’ ও ‘খুনি’ বলেন। যুদ্ধের আগে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের চালানো দমন অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলেন।

ইরানের এমন নেতাদের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তা হতে দেব না।’

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আনার প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

প্রায় ১৯ মিনিট পর বক্তব্য শেষ করেন ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.