ফিফা সার্টিফায়েড ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার হচ্ছে রামুতে, থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা

আহমেদ ফারুক | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ দুপুর

কক্সবাজারের রামুতে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ফিফা সার্টিফায়েড ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার। সেন্টারটির জমিও বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) ১৫ দশমিক ২০ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন ও বাফুফের দেওয়া তথ্যমতে, রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া মৌজায় মহাসড়কের পাশে স্বপ্নতরী বিনোদনকেন্দ্র–সংলগ্ন এলাকায় এই টেকনিক্যাল সেন্টার গড়ে তোলা হবে। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন ফিফার অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরুর পথ খুলেছে।

দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে জাতীয় পুরুষ ও নারী দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলগুলোর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। খেলোয়াড় উন্নয়নের পাশাপাশি কোচিং শিক্ষা ও স্পোর্টস সায়েন্সভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

যে সুবিধা থাকবে সেন্টারে
প্রকল্পের আওতায় একাধিক প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ঘাসের মাঠ, আধুনিক জিমনেসিয়াম, চারতলা আবাসিক ভবন, ইনডোর ট্রেনিং সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া থাকবে স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিকেল ইউনিট, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ভিডিও অ্যানালাইসিস ল্যাব, কোচিং এডুকেশন সেন্টার, ডাইনিং ও কনফারেন্স সুবিধা। বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থাও থাকবে এতে।

বাফুফের কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশে স্থায়ী ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরি হবে। এতে বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খেলোয়াড় তৈরির সুযোগ বাড়বে।

prothomalo-bangla%2F2026-09-07%2Ftfkfny7f%2FFootball-2.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

আধুনিক এই সেন্টারটি নির্মাণের জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বাফুফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন

গতকাল দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জমি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাফুফের পক্ষে জমি রেজিস্ট্রেশন–সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। পরে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র বাফুফে সভাপতির হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রামু উপজেলায় বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বাফুফের কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি বলেন, রামুতে আন্তর্জাতিক মানের এই টেকনিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলাররা এখানে আধুনিক ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ খেলোয়াড় তৈরিতেও কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যে কারণে বেছে নেওয়া হলো রশিদনগরকে
প্রকল্পের পরিকল্পনা বহু আগে হলেও জমি বরাদ্দে জটিলতা দেখা দেয়। বাফুফের দাপ্তরিক তথ্যমতে, ২০২২ সালে ফিফার নির্বাহী কমিটি বাংলাদেশে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের পর কক্সবাজারকে বেছে নেওয়া হয়।

প্রথমে রামুর খুনিয়াপালং এলাকায় প্রায় ২০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ওই জমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতাভুক্ত হওয়ায় পরিবেশগত আপত্তি ওঠে। ফলে পরিকল্পনাটি বাতিল করে নতুন জায়গা খোঁজা শুরু হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২৫ সালে রশিদনগরের ধলিরছড়া মৌজায় ১৫ দশমিক ২০ একর খাসজমি চূড়ান্ত করা হয়। আর গতকাল তা হস্তান্তর হলো।

বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। কয়েক দফা ফিফার কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হয়েছে। একপর্যায়ে প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল। তবে সরকারের সহযোগিতা ও বাফুফের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে দেশের ফুটবলের জন্য একটি স্থায়ী, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা।’

বাফুফের প্রকল্প কর্মকর্তা তানভির আহমেদ ছিদ্দিকী বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা, অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ বিবেচনায় কক্সবাজারকে নির্বাচন করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে যোগাযোগও সহজ হবে।

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.