আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর–হাতিরপুল এলাকায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে তারা দুটি ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্সের গায়ে চাঁদাবাজদের কার্যক্রমের ছবি দিয়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’ ও ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’। দেশে চাঁদাবাজ নির্মূলে মোড়ে-মোড়ে এ রকম বাক্স স্থাপন করতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান এনসিপির নেতারা।
বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের নিচে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে কিছুক্ষণ স্লোগান দেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা। তাঁরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’, ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে প্রতীকী দানবাক্স হাতে বক্তব্য দেন হাসনাত। তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা মাছবাজার, কাঁচাবাজার, হাসপাতাল, যানবাহনসহ পরিবহন খাত এবং সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। বিএনপি সরকার এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যে চরের মধ্যে গরুকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিতে হয়। বাড়িঘর, মাদ্রাসা দখল হচ্ছে। ঢাকা শহরে দিনদুপুরে চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন করছে।
চলমান চাঁদাবাজি ও অপরাধ কার্যক্রম থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায় উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, সে জন্য দেশের প্রতিটি মোড়ে ও এলাকায় চাঁদাবাজদের জন্য এভাবে দানবাক্স খুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই। আপনারা ৫-১০ টাকা চাঁদাবাজদের জন্য এই দানবাক্সে দেবেন। বিএনপির যেসব চাঁদাবাজ নেতা-কর্মী আছেন, আপনারা এই দানবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যাবেন, তবু আমাদের বাড়িঘর-হাসপাতাল ভাঙার দরকার নেই, মহিষকে চরে ঘাস খাওয়াতে হলে আপনাদের চাঁদা নেওয়ার দরকার নেই। আমরা এলাকায় এলাকায় দানবাক্স খুলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন করতে চাই, যেন চাঁদাবাজদের একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা অন্তত আমাদের জানটাকে নিরাপত্তা দিন। আমরা আপনাদের ভিক্ষা দেব, তবু আমাদের বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করার দরকার নেই, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। আপনারা বাড়িঘর, মাদ্রাসাও দখল করছেন। আমরা এগুলো থেকে নিস্তার চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স গড়ে উঠুক। সেখান থেকে যাতে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান হয়।’
হাসনাতের বক্তব্যের পর স্লোগান ধরেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ‘চাঁদাবাজের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘চাঁদাবাজের কফিনে, পেরেক মারো একসাথে’ প্রভৃতি স্লোগানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান সমবেত এনসিপি নেতা–কর্মীরা।
পরে প্রতীকী দানবাক্স নিয়ে মিছিল বের করা হয়। বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় ব্যবসায়ীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত–পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা। হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। পরে এই মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ী ভাইদের আমরা বলব, আপনারা প্রত্যেকে দোকানে একটা বাক্স রাখবেন। সেখানে মানুষকে বলবেন ভিক্ষা দিতে। যদি কোনো চাঁদাবাজ দোকানে আসে, বলবেন যে আমরা চাঁদাবাজির টাকা দিতে চাই না, তোমরা যারা ভিক্ষা করতে এসেছ, ভিক্ষার বাক্স নিয়ে যাও। বাংলাদেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা জিহাদ ঘোষণা করলাম, এটা আমরা চলতে দেব না।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ছাড়াও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাঁচার জন্য প্রতিটি রাস্তার মোড়ে, দোকানপাটের সামনে এ রকম দানবাক্স বা ভিক্ষার বাক্স রাখা হোক। কেউ চাঁদা চাইতে এলে বলবেন, ‘‘তোমাদের জন্য ভিক্ষার বাক্স রাখা আছে, ওখান থেকে তোমরা নিয়ে যাও, তাও আমাদের বাঁচতে দাও’’। চাঁদাবাজ নির্মূলে মোড়ে মোড়ে এ রকম ভিক্ষার বাক্স স্থাপন করুন।’