তিন মাস আগে বাবা মারা যায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর মিশকাত হোসেনের। তাঁর রেখে যাওয়া একটি ইজিবাইক ছিল পরিবারটির উপার্জনের একমাত্র সম্বল। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি সেই ইজিবাইক চালিয়ে মা–ছেলের সংসার চালাত মিশকাত।
কিন্তু গত শনিবার রাতে যাত্রীবেশে ইজিবাইকটিতে ওঠে একদল ছিনতাইকারী। নির্জন মাঠে নিয়ে মিশকাতকে মারধর করে তারা। পরে মিশকাতকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ইজিবাইকটি নিয়ে চলে যায় তারা।
প্রায় এক ঘণ্টা পর দুই পথচারী কিশোরটিকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন। এর পর থেকে থামছে না মা মিনারা খাতুন ও ছেলে মিশকাতের কান্না। এখন সংসার চলবে কীভাবে—এ নিয়েই তাঁদের যত দুশ্চিন্তা।
মিশকাত ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের একমাত্র ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বড় বোন রিয়া খাতুনের বিয়ের পর মাকে নিয়েই তার সংসার।
নিজেদের কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই দাবি করে মিশকাত প্রথম আলোকে বলেন, তিন শতাংশ জমির ওপর টিনের ঘরে মা–ছেলে থাকে। তার বাবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ওই ইজিবাইক কিনেছিলেন। তিন মাস আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এরপর সংসারের দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে।
ওই সময় থেকে মিশকাত সকালে বিদ্যালয়ে যেত এবং দুপুরের পর বেরিয়ে পড়ত ইজিবাইকটি নিয়ে। সে জানায়, এ থেকে প্রতিদিন তাঁর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো। সেই টাকাতেই চলত তাদের সংসার।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেশী আকিমুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি পড়ালেখার পাশাপাশি সংসারটি বাঁচিয়ে রেখেছিল। এখন ইজিবাইকটি হারিয়ে কান্নাকাটি করছে। তাদের সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটির আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা দাবি করে মিশকাতের মা মিনারা খাতুন বলেন, ইজিবাইক কেনার ঋণ এখনো শোধ হয়নি। এখন কীভাবে সংসার চলবে, ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন—কিছুই বুঝতে পারছেন না।
তবে ইজিবাইক ছিনতাই হওয়ার খবর পাননি বলে জানান স্থানীয় কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাহারুজ্জামান সবুজ। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে কোনো অভিযোগ পাননি ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগ পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।