আগেভাগে অবসর নিতে বাধ্য হচ্ছেন ৪৬ শতাংশ মানুষ, দুশ্চিন্তায় প্রবীণ কর্মীরা

John Smith | আপডেট: ৩ মে ২০২৬, ২:১৮ দুপুর

পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক দিন কাজ করে সচ্ছলভাবে অবসরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন প্রায় সব চাকরিজীবী। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ তাঁদের ভাবনার অনেক আগেই কাজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অসুস্থতা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো অপ্রত্যাশিত কারণে অনেকেরই শেষ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ইচ্ছার বিরুদ্ধে আগেই বিদায়
অবসরে যাওয়ার বয়স নিয়ে অনেকেরই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। তবে মার্কিন গবেষণা সংস্থা এমপ্লয়ি বেনিফিট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইবিআরআই) জরিপ বলছে, প্রায় অর্ধেক মানুষের ক্ষেত্রেই সেই অঙ্ক মিলছে না। তাঁদের একটি বড় অংশই অনিচ্ছাসত্ত্বেও সময়ের আগে কর্মজীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে। জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৬ শতাংশ ক্ষেত্রে এই আগাম অবসরের পেছনে কর্মীদের কোনো হাত নেই। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো হুট করে দেখা দেওয়া শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতা। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড় কোনো কোম্পানি হুট করেই কর্মী ছাঁটাই করছে কিংবা পুরো প্রতিষ্ঠানই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় হুট করে কাজ হারিয়ে অনেক বয়স্ক কর্মী দিশাহারা হয়ে পড়ছেন। কারণ, বেশি বয়সে নতুন কোনো চাকরি খুঁজে পাওয়া বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশেও বয়স্ক কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা দৃশ্যমান
বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও বর্তমানে এই আগাম অবসরের চিত্রটি বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে নির্দিষ্ট বয়সের পর কর্মীদের ছাঁটাই করার একটি নীরব প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ, কিন্তু বয়স্ক কর্মীদের বদলে কম বেতনে তরুণদের নিয়োগ দিতে বেশি আগ্রহী। এর ফলে ৫০ বা ৫৫ বছর পার হওয়া কর্মীরা একধরনের অস্থিরতার মধ্যে থাকছেন। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব থাকায় হুট করে কাজ হারানো এই বয়স্ক কর্মীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। বিশেষ করে যাঁদের সঞ্চয় কম বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশে বয়স্ক কর্মীদের ছাঁটাইয়ের হার বাড়তে থাকায় এটি একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।

বিকল্প পরিকল্পনা আগেভাগেই ভাবুন
দেরিতে অবসর নিলে সাধারণত পেনশনের সুবিধা বা জমানো অর্থের পরিমাণ বেশি হয়। নিয়মিত বেতন আসায় সঞ্চয় ভাঙতে হয় না; বরং সম্পদের পরিমাণ বাড়ে। কিন্তু হঠাৎ কাজ হারালে পুরো জীবনের হিসাব ওলট–পালট হয়ে যায়। এই ধাক্কা সামলাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো শুরু থেকেই একটি বিকল্প পরিকল্পনা রাখা। আপনি ঠিক কত বছর কাজ করতে পারবেন এবং হুট করে কাজ ছাড়তে হলে সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, তা আগেভাগেই ভেবে রাখা ভালো। পরিকল্পিত সঞ্চয় ও স্বাস্থ্যবিমা এই অনিশ্চিত সময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে। এতে অন্তত শেষ বয়সে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বা জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমে আসে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.