শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শামীম মিয়া হবিগঞ্জের শিবজয়নগরে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য একটি অনন্য উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। গ্রামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে অর্জিত ব্যক্তিগত সাফল্যকে তিনি কেবল নিজের হিসেবে দেখেন না; বরং তা গ্রামের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজে লাগাচ্ছেন। তার উদ্যোগ ‘আলো ছড়াও শিক্ষার ব্যক্তিগত সাফল্যপথে’ শিশুদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করছে। মহল্লাভিত্তিক অভিভাবক বৈঠক ও নিয়মিত কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
শামীম নিজের টিউশনের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ এই কার্যক্রমে ব্যয় করছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে খাতা, কলম এবং বই কিনে পুরস্কার দেন। সম্প্রতি কিছু শুভানুধ্যায়ী ও প্রবাসী সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ায় কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে স্কুলমুখী করা, বাল্যবিবাহ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা, এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষিত করা।
শামীমের শৈশবের বিদ্যালয় ‘বরতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে খুতবায় শিক্ষা ও সরকারি বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন এবং রমজানে শিশুদের আরবি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করতে বিশেষ অনুদান নিশ্চিত করেন। শামীম মিয়া বলেন, “আমাদের গ্রামে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। এমনকি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হাফেজ-আলেম ও কারির সংখ্যাও কম। তাই আমার দায়িত্ব ও গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত মহল্লাভিত্তিক বৈঠক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যাচ্ছি।”