বাংলাদেশে পেট্রোল-অকটেনের দেশীয় উৎপাদন থাকলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ হচ্ছে না। পাম্প মালিকদের মতে, ডিজেলের তেমন সংকট নেই, মূলত সমস্যা হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের পেছনে চারটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, প্যানিক বায়িংয়ে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চালক অবৈধভাবে তেল মজুত করছেন। তৃতীয়ত, দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট কমে যাওয়ায় পেট্রোল-অকটেন উৎপাদনও কমে গেছে। চতুর্থত, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারির দুর্বল অবকাঠামো এবং ক্রুড ওয়েলের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয়ভাবে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন পেট্রোল উৎপাদিত হয়েছে। তবে অকটেনে দেশীয় উৎপাদন চাহিদা পূরণে অপ্রতুল; তাই দেশকে অর্ধেক অকটেন আমদানি করতে হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট দিনে মাত্র ৪,৫০০ ব্যারেল উৎপাদন করতে পারছে, যা দেশীয় চাহিদার একটি সীমিত অংশ পূরণ করে।
উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, সংকটের মূল কারণ হলো রিফাইনারি বন্ধ থাকা ও কম উৎপাদন। পাশাপাশি, পাম্পগুলোতে ক্রেতাদের দ্বিগুণ চাহিদার কারণে প্যানিক বায়িং ও অবৈধ মজুতদারি বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, মোটরসাইকেল চালকদের তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারকে রেশনিংয়ের মাধ্যমে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে।
সংক্ষেপে, পেট্রোল-অকটেন সংকট মূলত উৎপাদন সীমাবদ্ধতা, কম কনডেনসেট, রিফাইনারি অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত চাহিদার মিলিত প্রভাবের ফল। সামনের দিনে ১৭ হাজার টনের অকটেন জাহাজ আগমনের মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।