অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন এই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতির মাত্রা বৃদ্ধি করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না, তবে সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, যাতে একদিকে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই বর্তমানে নিম্নমুখী। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে চাপ আরও বেড়েছে।
বর্তমানে এলডিসি উত্তরণের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি পুরোপুরি整 নেই। বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে এলডিসি উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।