ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গত রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় এই মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।

স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার সঙ্গে জাহের আলভীছবি: ফেসবুক
মামলার এজাহারে নির্যাতন ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন বাবা কবির হায়াত খান। ইকরার মৃত্যুর আগে পারিবারিকভাবে এসব সংকট সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফলাফল আসেনি বলে জানান ইকরার বাবা। মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে জাহের আলভীকে এবং ২ নম্বর আসামি তাঁর মা নাসরিন সুলতানা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে জাহের আলভীর সঙ্গে আফরা ইভনাথ খান ইকরার বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান। বিয়ের পর থেকেই জাহের আলভী তাঁর মা নাসরিন সুলতানার প্ররোচনায় ইকরাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইকরার পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর পর থেকেই স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায়ই ইকরাকে অপমান করতেন এবং তাঁদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি জাহের আলভী ইকরাকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই উসকানিমূলক কথা বলতেন—যা তাঁর মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঘটনার দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে নাসরিন সুলতানা শিউলি ফোন করে ইকরার মামা এস এম জায়েদ আল ফাত্তাহকে জানান, মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে ইকরাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়।