৪৪ ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ, তিথির হুঁশিয়ারি—‘সাধু সাজবেন না, সবার আমলনামা আছে’

John Smith | আপডেট: ৫ মার্চ ২০২৬, ৯:৪৩ সকাল

অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার অপমৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কে কথা বললেন ইফফাত আরা তিথি। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টে ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন তিথি।

ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেছেন।

সম্প্রতি নাটকের শুটিংয়ের জন্য আলভী ও তিথি নেপালে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়—তিথির জন্মদিন উদ্‌যাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলভী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মারা যান। এর পর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।

ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘ভেবেছিলাম এইগুলা পাবলিকলি দিব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারাস করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজছেন, আপনারা কী, সেটার আমলনামাও আছে।’

prothomalo-bangla%2F2026-03-04%2F6xmd1jj8%2F565309
 

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’। ইকরার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল বলে আগেই পরিষ্কার করেছেন। পোস্টে ‘ইকরার সঙ্গে ছিল স্বাভাবিক যোগাযোগ’ দাবি করে তিথি জানান, ইকরার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত ও স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশনের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা কখনোই ছিল না।’ বরং তিনি ইকরাকে কাজের মধ্যে সক্রিয় থাকতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন।prothomalo-bangla%2F2026-03-04%2Faenup0pp%2F491164
 

ফেসবুক পোস্টে তিথি দাবি করেছেন, ‘আমি কখনো বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করব। বরং বলেছি, তুমি তার কুইন।’

ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেন তিথি। এ বিষয়ে তিথি বলেন, ‘কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিলো না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে ও আমেরিকা চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিলো, “এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, তুমি তাঁকে ভালোবাসো। তুমি রানি, তুমি তাঁর রানি।” তাহলে আত্মহত্যার জন্য উস্কানি আমি কেমন করে দিব? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি।’

তিথির পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁর দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা লিখেছিলেন। এ বিষয়ে তিথি লিখেন, ‘একটা মেয়ে যত যা–ই হোক নিজের বাবা–মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি ওনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিলো। ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। স্পষ্ট লিখেছে যে ২০১৮ সালে একবার ও আলাদা হয়ে গিয়েছিলো এবং ওর বাবাকে বলেছিলো যে ওকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু ওনারা সাপোর্ট করে নাই। সেই থেকে ওর মনে একটা ক্ষোভ তাদের নিয়ে, যা থেকে এরপর আর কোনো দিন সে মুখ ফুটে কিছু বলে নাই।

পোস্টে তিথি আরও লেখেন, যদি তাঁর কিছু হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। দীর্ঘ পোস্টের শেষে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিথি। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এত দোয়া করুক, যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।’

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.