শাপলা গণহত্যার শিকারদের রাষ্ট্রীয় শহীদের স্বীকৃতি দিতে হবে: আখতার হোসেন

John Smith | আপডেট: ৬ মে ২০২৬, ১২:৫৫ দুপুর

‘শাপলা গণহত্যা থেকে জুলাই: মানবতাবিরোধী অপরাধ, ঐতিহাসিক দায়, বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আখতার হোসেন। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে। ৫ মে ~ ছবি: এনসিপির সৌজন্যে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে নিহতদের রাষ্ট্রীয় শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘গণহত্যায় যারা মাস্টারমাইন্ড ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে সময়টাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যারা এই হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন দিয়েছিল, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে ‘শাপলা গণহত্যা থেকে জুলাই: মানবতাবিরোধী অপরাধ, ঐতিহাসিক দায়, বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি আখতার হোসেন এ কথা বলেন। শাপলা চত্বরে গণহত্যার ১৩ বছর উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে এনসিপি।

আখতার হোসেন বলেন, ৫ মের শহীদেরা সব থেকে কম আলোচিত। তাঁদের ন্যূনতম স্মরণ করার সুযোগটুকুও আওয়ামী লীগ দিতে চায়নি। ৫ মে কেউ মারা গেছে—এ তথ্য প্রকাশ করলেও সেই পরিবারের অন্যদের ওপর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নিপীড়ন করা হয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ ‘অধিকার’।

আওয়ামী লীগ ‘মানবতাবিরোধী সংগঠন’ মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শাসনে সমাজের এমন কোনো অংশ নেই, যার ওপর তারা নিপীড়ন চালায়নি। সংখ্যালঘুদের ওপর যেমন অত্যাচার নিপীড়ন করা হয়েছে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ওপর অত্যাচার জুলুম করা হয়েছে।

দেশে আর ধর্মবিদ্বেষের চর্চা চান না উল্লেখ করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের উগ্রপন্থাও এই দেশে আর দেখতে চাই না। সাধারণ মানুষেরা তাদের কথাটা যেন সুন্দর করে বলতে পারে। তাদের কথার সাথে কে কতটুকু একমত বা দ্বিমত, সেটি বড় নয়; বড় হলো মানুষ তাঁর কথাটা বলে নিরাপদ থাকতে পারলেন কি না, তার ওপরে জুলুম করা হলো কি না।’

নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সাল থেকেই তথাকথিত রাজাকার বা মৌলবাদী তকমা দিয়ে দেশপ্রেমিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের দমন করার একটি ‘লাইসেন্স’ তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে, সেখানে অতীতের সব জুলুম ও অবিচারকে ‘অ্যাড্রেস’ (বিবেচনায় আনা) করতে হবে। তা না হলে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যা পর্যন্ত প্রতিটি অন্যায়ের বিচার ও স্বীকৃতি প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সভাপতি মাওলানা আশরাফ মাহদি, হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.