প্রতিশোধ নিতে স্পিকারে ভূতের গল্প শোনালেন প্রতিবেশীকে

John Smith | আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১:৩২ দুপুর

দুই বাড়ির মাঝখানে স্পিকার বসানো হয়েছিল

প্রতিবেশীর ওপর প্রতিশোধ নিতে উদ্ভট এক কাণ্ড করলেন আরেক প্রতিবেশী। প্রতিদিন নিয়ম করে লাউড স্পিকারে ভূতের অডিও গল্প চালানো শুরু করলেন। আর তা প্রায় ১০ ঘণ্টা করে চলতে থাকল। ভুতুড়ে সব শব্দে এক পর্যায়ে অন্যরাও বিরক্ত হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুরাহা হয়।

চীনের গুয়াংঝু শহরে ঘটেছে এমন ঘটনা। লু নামের এক ব্যক্তি এবং তাঁর রুমমেট লি প্রতিবেশী শি-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান। দ্বন্দ্বের কারণ কী ছিল, তা জানা যায়নি। লু এবং লি তাঁদের প্রতিবেশী শি–এর ওপর প্রতিশোধ নিতে উদ্ভট এক কাণ্ড শুরু করেন। তাঁরা দেয়ালের পাশে একটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতিদিন ভৌতিক গল্প চালানো শুরু করেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তা চলতো। সারাক্ষণ ভুতুড়ে সব শব্দ প্রতিধ্বনিত হতো সেখানে।

লু এবং লি–এর এমন আচরণে শুধু প্রতিবেশী শি নয়, দুই তলা উপরে থাকা চুই–এর পরিবারও বিরক্ত হয়ে উঠে। বিশেষ করে চুই–এর সন্তান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছিল না।

তবে বিরক্ত হলেও শব্দের মাত্রা আইনি সীমার নিচে থাকায় সরাসরি কিছু করা যাচ্ছিল না। বিধি অনুযায়ী, দিনে শব্দসীমা ৬০ এবং রাতে ৫০ ডেসিবেলের নিচে থাকতে হবে। স্পিকারে চালানো সে ভৌতিক গল্পের শব্দ মাত্রা ছিল৩৬ ডেসিবেল।

তবে চুই বিশ্বাস করতেন, লু ইচ্ছা করে এমন শব্দ তৈরি করছেন যা তাঁর পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে। এজন্য তিনি গুয়াংঝুর হাইজু ডিস্ট্রিক্ট পিপল’স আদালতে প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশনের জন্য আবেদন করেন।

প্রি-লিটিগেশন ইঞ্জাংশন হলো, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় আসার আগে আদালতের এমন একটি আদেশ, যা কোনো পক্ষকে ক্ষতি বা বিঘ্ন ঘটাতে বাধা দেয়।

পরে আদালতের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে লু সব অডিও সরঞ্জাম খুলে ফেলেন এবং ভবিষ্যতে কোনো শব্দজনিত সমস্যা তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঘটনাটি অনলাইনেও আলোচনার ঝড় তোলে। কেউ প্রশ্ন করেন, ‘আমার খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, কী ধরনের ঝগড়া হলো যে কেউ একজন ১০ ঘণ্টার ভূতের গল্প চালাতে বাধ্য হলো?’ কেউ লিখেছেন, ‘এই লোকটা সত্যিই সাহসী। তাঁর কি নিজের ভয় নেই? নিজে এবং প্রতিবেশী কাউকেই ছাড় দেননি তিনি।’

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.