রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঁচটি নীতিসহায়তা চেয়েছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতারা।
বিটিএমএর নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমানে শিল্প খাতটি গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমিত সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, চলতি মূলধনের সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন ও সীমিত ব্যাংক অর্থায়নের কারণে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। এতে অধিকাংশ শিল্পকারখানা তাদের স্থাপিত সক্ষমতার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি টেক্সটাইল মিল ও ৪৫০টির বেশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করেছে।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিটিএমএর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বিটিএমএর বর্তমান সহসভাপতি মো. আবুল কালাম ও মো. শামীম ইসলাম, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, সাবেক পরিচালক বাদশা মিয়া, রাজীব হায়দার, আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামিউল ইসলাম প্রমুখ। বিটিএমএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্রশিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বিটিএমএর নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত সরকার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে রপ্তানি প্রণোদনা, মূলধনি ভর্তুকি, স্বল্প সুদে অর্থায়ন, অবকাঠামোগত সহায়তা, বিদ্যুৎ ও করের সুবিধা, প্রযুক্তি উন্নয়নসহ ব্যাপক নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করেছে। এতে বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় সুতার আমদানি বাড়ছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার কটন সুতা আমদানি হয়েছে। এই পরিমাণ সুতা দেশে উৎপাদন করলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।
বিটিএমএর নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্ত্র খাত ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সমন্বিত শুল্ক–কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করেছেন।
এ ছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের বিদ্যমান সব ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ, সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সহজ প্রক্রিয়া, প্রকল্পভিত্তিক সিআইবি মূল্যায়ন ও বন্ধ বা আংশিক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি শিথিল করার ব্যবস্থা, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগ মূলধনি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস মেকানিজম চালু করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কাস্টমস ও অন্যান্য সরকারি সেবার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন বিটিএমএর নেতারা।
বিটিএমএর নেতারা বলেন, এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে বস্ত্র খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রপ্তানি বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।