পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ নয়, টুর্নামেন্টে আপত্তি নেই—পুরোনো নীতিতেই ভারত

John Smith | আপডেট: ৭ মে ২০২৬, ১০:৫৯ দুপুর

বহুজাতিক টুর্নামেন্টে খেলবে ভারত–পাকিস্তান | এএফপি

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রীড়া সম্পর্ক বন্ধই রাখছে ভারত। আজ দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই থাকবে। তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি দল বা খেলোয়াড়দের অংশ নিতে বাধা দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দ্বিপক্ষীয় ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের কোনো দল পাকিস্তানে যাবে না, তেমনি কোনো পাকিস্তানি দলকেও ভারতে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।’

বহুজাতিক আসরের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভিন্ন হওয়ার কারণ উল্লেখ করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক ইভেন্টের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নিয়ম এবং আমাদের খেলোয়াড়দের স্বার্থকে প্রাধান্য দেব। সে অনুযায়ী বিদেশে বা দেশে আয়োজিত এমন আসরে ভারত অংশ নেবে, যেখানে পাকিস্তানও থাকছে। একইভাবে ভারতে আয়োজিত বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি দল বা খেলোয়াড়েরা অংশ নিতে পারবে।’

prothomalo-bangla%2F2025-11-05%2F3cn1rjl5%2F565194327183872251811314072526318388324383046n.jpg?w=1536&auto=format%2Ccompress&fmt=webp

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রীড়া সম্পর্ক বন্ধই রাখছে ভারত | ইনস্টাগ্রাম/হকি ইন্ডিয়া

মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তান–বিষয়ক এই ক্রীড়ানীতি প্রথম ঘোষণা করা হয়। সে বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনা এবং এরপর দুই দেশের সীমান্ত–সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অবস্থানের কথা জানানো হয়।

দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে থাকার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—বহুজাতিক আসরে আপত্তি না থাকলেও পাকিস্তান আয়োজক দেশ হলে ভারত সেখানে দল পাঠাবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে খবর দিয়েছে, নিজেদের ক্রীড়া কূটনীতিতে ভারসাম্য আনতেই এ কৌশল নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী বৈষম্যহীনভাবে সব দেশের অ্যাথলেটদের স্বাগত জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই অলিম্পিক আয়োজনের দাবি জোরালো করতে ভারত নিজেকে একটি ‘উন্মুক্ত ও নির্ভরযোগ্য’ আয়োজক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চায়।

এ ছাড়া বিশ্বের কাছে ভারতকে একটি পছন্দসই ‘স্পোর্টিং ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তুলতে অ্যাথলেট, কোচ ও কর্মকর্তাদের ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সফরকারী কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রটোকল ও সৌজন্য প্রদানের নিশ্চয়তাও দিয়েছে ভারত সরকার।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.