ইরানের হামলায় মার্কিন ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, এই উড়োজাহাজের কাজ কী

John Smith | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উড়োজাহাজটি আগাম সতর্কতা পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়।

‘এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আওয়াকস)’ হিসেবে ব্যবহৃত এই উড়োজাহাজ শত শত মাইল দূর থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুক্রবারের ওই হামলায় ১২ মার্কিন সেনাসদস্যও আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। অবশ্য আহত সেনার সংখ্যা ১৫ জন বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কমপক্ষে দুটি ‘কেসি-১৩৫’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়।

ইরানের সঙ্গে মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এই সম্মিলিত হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১৩ মার্চ প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। উড়োজাহাজগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।

ওই দিনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছিল, ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজের ছয় ক্রুর সবাই নিহত হন। এ ছাড়া ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একই ধরনের আরেকটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে জরুরি অবতরণ করে।

সেন্টকম দাবি করেছিল, ‘শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে’ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে।

‘আইজ ইন দ্য স্কাই’
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে ‘আওয়াকস’ প্রযুক্তিসম্পন্ন একঝাঁক ‘ই–৩এ’ উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে ন্যাটো। এই উড়োজাহাজগুলো এই সামরিক জোটের জন্য আকাশপথে নজরদারি, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ রক্ষার কাজ করে থাকে।
বোয়িং–৭০৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তিত এই সংস্করণগুলো সহজেই চেনা যায়। কারণ, এগুলোর মূল কাঠামোর ওপর একটি স্বতন্ত্র রাডার ডোম (গম্বুজাকৃতির রাডার) বসানো থাকে। এই উড়োজাহাজগুলোতে রয়েছে দূরপাল্লার রাডার এবং প্যাসিভ সেন্সর, যা অনেক দূর থেকেই আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।

আওয়াকস উড়োজাহাজগুলো নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা সম্ভাব্য শত্রুবিমান শনাক্ত করা, সেগুলোর গতিপথ অনুসরণ, পরিচয় নিশ্চিত এবং এ–সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে সক্ষম। এর পাশাপাশি মিত্রদেশগুলোর যুদ্ধবিমানকে কমান্ড ও কন্ট্রোল বা নির্দেশনা দেওয়ার কাজও করে এই উড়োজাহাজ। এগুলো সমুদ্রের জাহাজ শনাক্ত ও সেগুলোর গতিবিধি নজরদারি করতে পারে এবং মিত্রদেশগুলোর নৌবাহিনীকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করে থাকে।

আওয়াকস উড়োজাহাজের সংগৃহীত তথ্যগুলো সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় তাৎক্ষণিক স্থল, জল বা আকাশপথে থাকা অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠানো সম্ভব।

ন্যাটোর এই আওয়াকস বহরটি জার্মানিতে অবস্থিত ‘ন্যাটো এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল ফোর্স’ দ্বারা পরিচালিত হয়।

 

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.