ঘরেই পরমাণু চুল্লি বানিয়ে ফেলল ১২ বছরের কিশোর

John Smith | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৫ সকাল

যুক্তরাষ্ট্রের Dallas–এর ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্র Aiden MacMillan নিজের ঘরে তৈরি করেছে একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর। ছোটবেলা থেকেই নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী এইডেন টানা চার বছর গবেষণা ও প্রস্তুতির পর যন্ত্রটি তৈরি করে এবং সফলভাবে নিউট্রন নির্গমন ঘটায়, যা ফিউশন সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ। NBC News–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সে এখন Guinness World Records–এ সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানোর

সাধারণত ১২ বছর বয়সের একটা ছেলে কী করে? ভিডিও গেম খেলে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় কিংবা স্কুলের হোমওয়ার্ক নিয়ে হিমশিম খায়। কিন্তু আমেরিকার ডালাসের এই ছেলেটি একদম আলাদা। তার নাম এইডেন ম্যাকমিলান। সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এই স্কুলছাত্র এমন এক কাণ্ড করে বসেছে, যা শুনে বড় বড় বিজ্ঞানীদেরও চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। সে তার নিজের খেলার ঘরেই বানিয়ে ফেলেছে একটি আস্ত নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর!

সূর্যের বুকে প্রতিনিয়ত যে প্রক্রিয়ায় বিপুল শক্তি তৈরি হয়, তাকে বলে নিউক্লিয়ার ফিউশন। আর সেই একই প্রক্রিয়া এইডেন ঘটিয়েছে তার ছোট্ট ল্যাবে। এনবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইডেন এখন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর অপেক্ষায় আছে। তার লক্ষ্য, ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানোর স্বীকৃতি পাওয়া।

এইডেন যখন মাত্র আট বছরের শিশু, তখন থেকেই তার মাথায় এই ভূত চাপে। খেলনা বা কার্টুন নয়, তার আগ্রহের বিষয় ছিল নিউক্লিয়ার ফিজিকস। তবে হুট করে একদিন হাতুড়ি-পেরেক নিয়ে সে কাজে নেমে পড়েনি। সে জানত, এটা ছেলেখেলা নয়। তাই টানা দুই বছর সে শুধু পড়াশোনা করেছে। ফিউশন কীভাবে কাজ করে, এর পেছনের তত্ত্ব কী, নিরাপত্তার বিষয়গুলো কী কী; সব আগে নিজের মাথায় গেঁথে নিয়েছে। বই পড়ে ও ইন্টারনেট ঘেঁটে নিজেকে প্রস্তুত করার পরই সে যন্ত্রটি বানানোর কাজে হাত দেয়। সব মিলিয়ে এই প্রজেক্ট শেষ করতে তার সময় লেগেছে দীর্ঘ ৪ বছর।

এইডেন যখন মাত্র আট বছরের শিশু, তখন থেকেই তার মাথায় এই ভূত চাপে। খেলনা বা কার্টুন নয়, তার আগ্রহের বিষয় ছিল নিউক্লিয়ার ফিজিকস।  

ছেলের এমন ভয়ানক শখ দেখে মা যে শুরুতে ভয় পাননি, তা নয়। ঘরের মধ্যে নিউক্লিয়ার রিয়েক্টর! ব্যাপারটা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। মা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আগে আমাকে বোঝাও এর বিপদ কতটুকু। কী কী ভুল হতে পারে এবং তুমি কীভাবে সেই ঝুঁকিগুলো সামলাবে, তা নিশ্চিত করলেই কেবল কাজ করতে দেব।’

মায়ের অনুমতি পাওয়ার পর এইডেন সাহায্য পায় লঞ্চপ্যাড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ডালাসের এই নন-প্রফিট মেকারস্পেসটি মূলত বিজ্ঞান ও প্রকৌশল নিয়ে আগ্রহী ছাত্রদের সাহায্য করার জন্যই তৈরি। তাদের তত্ত্বাবধানেই এইডেন তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে।

পথটা মোটেও সহজ ছিল না। এইডেন নিজেই স্বীকার করেছে, এই অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, তেমনি ছিল হতাশার। বারবার সে ব্যর্থ হয়েছে। যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটিংসে ভুল হয়েছে, আবার নতুন করে সেফটি চেক করতে হয়েছে। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি।

মা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আগে আমাকে বোঝাও এর বিপদ কতটুকু। কী কী ভুল হতে পারে এবং তুমি কীভাবে সেই ঝুঁকিগুলো সামলাবে, তা নিশ্চিত করলেই কেবল কাজ করতে দেব।’  

ধৈর্যের ফল মিলল শেষে। একদিন তার তৈরি যন্ত্রটি নিউট্রন কণা উৎপাদন করতে শুরু করল। বিজ্ঞানের ভাষায়, নিউট্রন নির্গমন মানেই হলো ফিউশন সফল হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রম সফল হওয়ার পর এইডেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তার ভাষায়, ‘এটি ছিল এক দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি।’

সারা বিশ্ব এখন তার দিকে তাকিয়ে। কিন্তু এইডেন বলছে, খ্যাতি বা রেকর্ডের চেয়ে তার কাছে বড় ছিল কৌতূহল। সে বিশ্বাস করে, পৃথিবীর ভবিষ্যতের শক্তির সংকট মেটাতে নিউক্লিয়ার ফিউশন বড় ভূমিকা রাখবে।

এইডেন ম্যাকমিলান ও তাঁর আবিষ্কৃত যন্ত্র নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়েক্টর

এই সাফল্য তার বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্যারিয়ারের কেবল শুরু মাত্র। কে জানে, হয়তো এই এইডেন ম্যাকমিলানই একদিন আমাদের জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে ফেলবে!  

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.