বরিশালে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্র, চার দিন পর কক্সবাজারে উদ্ধার

John Smith | আপডেট: ৭ মে ২০২৬, ৯:২৬ সকাল

বরিশাল থেকে নিখোঁজের চার দিন পর কক্সবাজার থেকে উদ্ধার হয়েছে এক কিশোর | ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদরের ঈদগাহ বাজারে মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘোরাফেরা করছিল এক কিশোর। বিষয়টি নজরে পড়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর। তিনি কিশোরের কাছে গিয়ে ঘোরাফেরার কারণ জানতে চান। কিশোরের কথায় অসংগতি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঈদগাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুনীল বড়ুয়া বলেন, কিশোরের নাম সৌরভ দাস (১৩)। সে বরিশাল নগরের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সৌরভ। চার দিন পর তাকে ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার করা হলো। কীভাবে এবং কারা ছেলেটিকে বরিশাল থেকে কক্সবাজারে নিয়ে আসে, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সৌরভ পুলিশের হেফাজতে আছে জানিয়ে এসআই সুনীল বড়ুয়া বলেন, ভোররাতে ঈদগাহ বাজার থেকে ছেলেটিকে উদ্ধারের সময় তার (সৌরভের) পকেটে দূরপাল্লার বাসের দুটি টিকিট এবং ১০ টাকা পাওয়া গেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সৌরজ জানায়, খিচুড়ি কেনার সময় অপরিচিত এক ব্যক্তি তার কাছে ঠিকানা জানতে চেয়েছিল। এরপর তার আর কিছু মনে নেই।

পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, এটি ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রেরই কাজ হতে পারে। বর্তমানে সৌরভ সুস্থ রয়েছে, সে কথা বলতে পারছে।

উল্লেখ্য, ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ একধরনের ড্রাগ, যার নাম ‘স্কোপোলামিন’। এই ‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে মানুষকে হিপনোটাইজ বা বশ করা হয়। আর একবার বশ করতে পারলে অপরাধীরা হাতিয়ে নেয় ব্যক্তির মূল্যবান জিনিসপত্র।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিফাতুল মাজদার বলেন, শিশুটি উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছিল। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সৌরভের মামা দীপ্ত কুমার ঘোষ থানায় পৌঁছান। সঙ্গে বরিশালের কাউনিয়া থানার একজন এসআইও এসেছেন। সৌরভকে তাঁদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ছেলেটি বরিশাল থেকে কক্সবাজার কীভাবে এল, তার কারণ বা রহস্য উদ্‌ঘাটন করবে বরিশাল পুলিশ।

মামা দীপ্ত কুমার ঘোষ বলেন, ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে বাসা থেকে বের হয় সৌরভ। এ সময় সে একটি দোকানে গিয়ে বিকাশ থেকে ৮ হাজার টাকা ওঠায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। একই রাতে সৌরভের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি একটি স্কুলের মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়, যা এক অপরিচিত ব্যক্তি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি বরিশালের কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

চার দিন ধরে ছেলের সন্ধান না পেয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন মা মিতু রানী দাস। কক্সবাজার থেকে উদ্ধারের খবর পেয়ে মা বলেন, খিচুড়ির অর্ডার দিয়ে দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিল সৌরভ। এ সময় এক ব্যক্তি ঠিকানা জানতে চাইলেন, তার সঙ্গে সঙ্গে সৌরভ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মায়ের দাবি, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies.